নিজস্ব প্রতিবেদক,
ফেসবুকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে দুর্ধর্ষ অপহরণকারী চক্রের মূলহোতাকে গ্রেফতার পূর্বক অপহৃত যুবক ও মুক্তিপন আদায়ের টাকা উদ্ধার করেছে র্যাব-৬, খুলনা।
র্যাব ফোর্সেস আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির অপ্রতিরোধ্য উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে এবং সন্মানিত নাগরিকদের জন্য টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনের আলোকে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন যাবত পালিয়ে থাকা বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভূক্ত আসামিদের গ্রেফতার এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও বিবিধ প্রতারক চক্রের দ্বারা সংগঠিত চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে র্যাব জনগনের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
আনুমানিক দুই মাস পূর্বে ভিকটিমের সাথে এক নারীর ফেসবুকে পরিচয় হয়। পরিচয়ের এক পর্যায়ে তাদের মাঝে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরবর্তীতে উক্ত নারী তাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে দেখা করার প্রস্তাব দেয়। এর প্রেক্ষিতে ০১ এপ্রিল ২০২৫ ভিকটিম উক্ত নারীর সাথে দেখা করার উদ্দেশ্যে বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট থানাধীন জয়ডিহি বাসস্ট্যান্ডে যায় এবং নারীকে ফোন করে। উক্ত নারী তখন বুড়িগাংনি বাজারে যাওয়ার জন্য ভিকটিমকে একটি ভ্যান পাঠায়।
উক্ত ভ্যানে চড়ে বুড়িগাংনি বাজারে যাওয়ার পথে মাতারচর নামক স্থানে পৌছালে অপহরণচক্রের মূলহোতা আরমান শেখ সহ ৭ জনের একটি দল তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে একটি টিনের ঘরের মধ্যে আটকে রাখে। অপহরণচক্রটি ভিকটিমকে ব্লাকমেইল করার উদ্দেশ্যে ভিকটিমের পরিহিত কাপড় খুলে ভিডিও করার চেষ্টা করে। ভিকটিম অনুনয় বিনয় করলে অপহরণচক্রটি ভিকটিমকে অমানবিক নির্যাতন করে এবং ভিকটিমের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভিকটিমের মায়ের কাছে ৫,০০,০০০/-(পাঁচ লক্ষ) টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। ভিকটিমের মা নিরুপায় হয়ে ভিকটিমের প্রাণ রক্ষার্থে ১৫,০০০/- (পনেরো হাজার) টাকা বিকাশে অপহরণচক্রটির কাছে পাঠায়। ঘটনার বিষয়টি জানতে পেরে র্যাব-৬, সদর কোম্পানির আভিযানিক দল আসামি গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারী ও অভিযান কার্যক্রম চলমান রাখে।
এরই ধারাবাহিকতায় ০২ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ ১৭০০ ঘটিকার সময় র্যাব- সদর কোম্পানি এর আভিযানিক দল গোয়েন্দা তৎপরতায় সনাক্ত করতে সক্ষম হয় যে, উক্ত অপহরণকারী চক্রটি ভিকটিমসহ খুলনা জেলার রূপসা থানা এলাকায় অবস্থান করছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে খুলনা জেলার রূপসা থানাধীন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ভিকটিম ও মুক্তিপণ হিসেবে গৃহীত ১৩,৯৬০/- (তেরো হাজার নয়শত ষাট) টাকা এবং ভিকটিমের মায়ের সাথে মুক্তিপণের জন্য যোগাযোগের মোবাইল ফোন উদ্ধার পূর্বক দুর্ধর্ষ অপহরণকারী চক্রের মূলহোতা মোঃ আরমান শেখ (২২), সাং- গিমাডাঙ্গা, থানা- টুঙ্গিপাড়া, জেলা- গোপালগঞ্জকে গ্রেফতার করেন।
গ্রেফতারকৃত আসামি ও উদ্ধারকৃত ভিকটিমকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।